মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৩

শিক্ষা ও ধর্ম (Education and Religion)

শিক্ষা
মানুষের অভ্যাস ও আচরণের সুপরিবরতনই হলো শিক্ষা। আপন প্রয়োজনের তাগিদে ইচ্ছাকৃত জ্ঞান অর্জনের বঃবস্থাই শিক্ষা। শিক্ষা জীবন থেকে উঠে আসা একটি প্রত্যয়। শিক্ষা সবসময়ই ইতিবাচক। তাই অশিক্ষা বা কুশিক্ষা নামে কোন বিষয় শিক্ষা গবেষণায় নেই। শিক্ষা একটি জীবন বঃাপী পঁকিঁয়া। শিক্ষা হচ্ছে আলোময় স্বাধীনতা। মাতৃগরভের অন্ধকার হতে শেষ কবরের অন্ধকার। মাঝখানে আলোর স্বাধীনতা।  এই আলোতে শিক্ষা মানুষের জীআনকে পূরণতার দিকে নিয়ে যায়। দুনিয়ার পাঁয় সকল শিক্ষাবিদই এ বিষয়ে একমত যে, শিক্ষার অনঃতম পঁধান বৈশিষ্টঃ চরিতঁ গঠন। শিক্ষা সম্পকৌ বিভিন্ন দারশনিকগন যে মতামত দিয়েছেন তার কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল-

  1. মিথঃার অপনোদন ও সতেঃর আবিষ্কারই হল শিক্ষা- - সকেঁটিস
  2. দেহমনের সুষম ও পরিপূরণ বিকাশের মাধ্ধমে বঃক্তি জীবনের প্ঁকৃত মাধুযৗ ও চরম সতেঃ উপনীত হওয়ার কৌশলই শিক্ষা- এরিস্টটল
  3. শিশুর নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী দেহমনের পরিপূর্ণ ও সার্বিক বিকাশ সাধনই হল শিক্ষা- প্লেটো
  4. সুঅভঃাস গঠনের নামই হলো শিক্ষা- রুশো
  5. সুন্দর বিশ্বস্থ এবং পবিতঁ জীবনের উপলব্দিই হলো শিক্ষা-- এফ ফঁয়েবল
  6. জীবনের পঁস্তুতি নয়, জীবনের উপলব্দিই হলো শিক্ষা- জন ডিউই
ধর্ম
ইংরেজী রিলিজিওন শব্দটি Religere থেকে উদ্ভুত, যার অর্থ হল বন্ধন। ধৃ ধাতুর সাথে মন পঁতঃয় যোগ করে সংস্কৃতে ধর্ম শব্দের উতপত্তি। ধর্ম শব্দের ধাতুগত অর্থ যা মানুষকে বন্ধনে অাবদ্ধ করে বা তাকে ধারণ করে। টেইলরের মতে ‍‍ধর্ম হলো আত্মীক জীবে বিশ্বাস। ম্যক্সমুলারের মতে ধর্ম হলো অসীমের প্রত্যক্ষণ বা উপলব্দি। ম্যাকেন্জির মতে এক সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক মূল্যবান সত্তার প্রতি অব্যাহত ভক্তির অনুরাগ হল ধর্ম। উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলো পর্যালোচনা করে বলা যায় ' যে পরম করুণাময়, অসীম শক্তিধর সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি সক্রিয় বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণই হলো ধর্ম।"

শিক্ষা ও ধর্মের মধ্যকার সম্পর্ক
মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম একটি। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সহজাত প্রাবৃত্তিগুলোর বিকাশ ও উতকর্ষ সাধিত হয়। সমাজ ব্যবস্থা হতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আলাদা করা যায়না। অর্থনীতি, রাজনীতি, সঙস্কৃতি, ধর্ম ইত্যাদি সমাজ ব্যবস্থার উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব তৈরী করে। যার কারনে এসবের প্রভাব শিক্ষায় ও পড়ে। এজন্য শিক্ষা ও ধর্ম পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। ব্লগের শুরুতে শিক্ষার যে সংজ্ঞা বা শিক্ষা সম্পর্কে মনীষিদের যে বক্তব্য দেয়া হয়েছে তার প্রতিটিতেই ধর্মের সাধারণ উপদেশ ও নির্দেশনা প্রতিফলিত হয়েছে। অতএব শিক্ষা কখনই ধর্ম নিরপেক্ষ হতে পারেনা। বরং শিক্ষাকে মানুষের জীবন ও জগতের উপযোগী করে তুলতে হলে ধর্মীয় শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুসরণ জরুরী।

শিক্ষায় ধর্মের ভুমিকা
  1. মানবীয় মমত্ববোধের সম্প্রসারণ ও অন্তর্জগতের বিকাশ
  2. পার্সপরিক সহানুভুতি ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে
  3. নৈতিকতার উন্নয়নে
  4. দায়িত্বানুভুতি সৃষ্টি করতে
  5. আত্মবিচার ও গঠনমূলক সমালোচনার পরিবেশ তৈরীতে
  6. পরিচ্ছন্নতার অনুশীলন ও বিশুদ্ধতা সংরক্ষনে
  7. সন্ত্রাস পরিহার ও বিশ্বশান্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিতে
  8. রাজনৈতিক নিপিড়ণ ও অর্থনৈতিক শোষণের পথ বন্ধ করতে
  9. কল্যানমূখী বিজ্ঞানের চর্চা
  10. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরী
  11. জ্ঞান অর্জনে ধর্মীয় তাগিদ
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী গঠনে ইসলাম সহায়তা করে। অন্ধত্ব ও কুসস্কারকে ইসলাম প্রতিরোধ করেছে। মূলত জ্ঞানের শূণ্যতার কারনে কেউ কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে বললেও সার্বিক বিবেচনায় ধর্মই হচ্ছে শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গ করার মাধ্যম।